July 11, 2026, 5:54 am

বৈদেশিক ঋণ কমেছে, চাপে সরকার

বৈদেশিক ঋণ কমেছে, চাপে সরকার

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলার সংকটে রয়েছে সরকার। রেমিট্যান্স বা রপ্তানির মাধ্যমে সরকারের যে আয় হচ্ছে তার চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে বিভিন্ন আমদানি ব্যয় ও ঋণ পরিশোধে। তার মধ্যে বিদায়ি ২০২২-২৩ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের চলমান প্রকল্পগুলোতে অর্থছাড় কম হওয়ায় আরও চাপে পড়েছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাময়িক হিসাবে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ ছাড় কমেছে ১৭০ কোটি ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ হাজার ৯৭ কোটি ডলার বিদেশি সহায়তা ছাড় হয়। অথচ গত অর্থবছর ছাড় মাত্র ৯২৭ কোটি ডলার। এক অর্থবছরে বিদেশি সহায়তা ছাড় ও প্রতিশ্রুতি এতটা কমার ঘটনা আর ঘটেনি।

যদিও এবারে বৈদেশিক ঋণ কম ছাড় হওয়ার বিষয়ে ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, আগের অর্থবছরে করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বড় ধরনের অর্থায়ন করেছিল। যার কারণে ২০২১-২২ অর্থবছরে বেশি ঋণ ছাড় হয়েছিল। তার আগের অর্থবছরের হিসাব দেখলে এটা কিন্তু কম না। তবে এ ছাড়া দেশের অর্থনীতিও চাপে থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নেও ধীরগতি আছে। এসব কারণে বিদেশি সহায়তার ছাড় ও প্রতিশ্রুতি কমেছে।

ইআরডির গত পাঁচ বছরের বৈদেশিক ঋণ ছাড়ের তথ্যে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে ছাড় হয়েছিল ১ হাজার ৯৭ কোটি ডলার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ছাড় হয়েছিল ৮৬৩ কোটি ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছাড় হয়েছিল ৭৯৫ কোটি ডলার, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছাড় হয়েছিল ৭৩৮ কোটি ডলার এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছাড় হয়েছিল ৭০৭ কোটি ডলার।

এদিকে বৈদেশিক ঋণছাড় কম হওয়ায় গত ছয় মাস ধরে ওয়েবসাইটে বৈদেশিক ঋণছাড়ের তথ্য দিচ্ছে না ইআরডি। ঋণছাড়ের তথ্য না দেওয়ার বিষয়ে ইআরডি সচিব ওয়েবসাইটের সমস্যা উল্লেখ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ইচ্ছাকৃতভাবেই ওয়েবসাইটে তথ্য দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে ঋণ ছাড় কম হলেও বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ বাড়তে শুরু করেছে। সদ্য বিদায়ি ২০২২-২৩ অর্থবছরেই আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩৭ শতাংশের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। আর গত ছয় বছরের হিসাব ধরলে পরিশোধের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে।

ইআরডির প্রাথমিক হিসাবে জানা গেছে, বিগত ২০২২-২৩ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ২৭৪ কোটি ডলার ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ করতে হয়েছে। যার পরিমাণ ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ২০১ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ৭৩ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ বেড়েছে।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ১১০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছিল বাংলাদেশ। পরের ১০ বছরে অর্থাৎ ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ২০১ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। মূলত চীনের ঋণ পরিশোধ শুরু হওয়ায় গত দিই-তিন বছর ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বাড়ছে।

এদিকে বিদায়ি অর্থবছরের মাত্র ৮৮০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১৩৭ কোটি ডলার কম। গত পাঁচ বছরে দাতাদের প্রতিশ্রুতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৯৯০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি মিলেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ১৭ কোটি ডলার।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, দেশের জন্য পাইপলাইনে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি ডলার আছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি সহজ শর্তের ঋণ। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি নমনীয় শর্তের ঋণ নিয়েছে। বর্তমানে এই ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। বিশ্বব্যাংকের মতো সহজ শর্তের ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ৩২ থেকে ৪০ বছর।

অন্যদিকে গত ১০ বছরে চীন, ভারত ও রাশিয়ার কাছ থেকে ৩ হাজার ৩৭৭ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে আছে চীনের ১ হাজার ৭৫৪ কোটি ডলার, রাশিয়ার ১ হাজার ১৮৭ কোটি ডলার এবং ভারতের ৭৩৬ কোটি ডলার। এসব ঋণ পরিশোধের সময়সীমা গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০-২৫ বছর। বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ অন্যান্য সংস্থা ও দেশের কাছ থেকে ঋণ নিলে যত বছরে পরিশোধ করতে হবে। রাশিয়া, চীন ও ভারতের ঋণ পরিশোধের সময় এর প্রায় অর্ধেক। এ কারণে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com